খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

মশা নিধনে কেরোসিন সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মশা নিধনে কেরোসিন সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

যোগফল প্রতিবেদক: 

ভেজাল কীটনাশকের নামে কেরোসিন সরবরাহ, বাসাবাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিসহ শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি দল অভিযান পরিচালনা করছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

কীটনাশক সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি চক্র, ল্যাব কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মশা নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সিটি করপোরেশনেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ ও ২০১৯ সালে ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান নাম ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তন করে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাজ শুরু করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানকে ডিএসসিসি থেকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় সঠিক মানের কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের নামে কেবল কেরোসিন ছিটানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও অ্যাকাউন্টস শাখার কর্মীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

অন্যদিকে, বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগও রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নেওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বৈধভাবে দরপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকা জামানত দিয়ে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এভাবে ডিএসসিসিতে প্রতিবছর বর্জ্য সংগ্রহের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ‘ময়লা-বাণিজ্য’ পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযান শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী তথ্য পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বিস্তারিত জানা যাবে।


তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম